student etin registration বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আগে ধারণা করা হতো যে, ই-টিন (e-TIN) বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর কেবল ব্যবসায়ীদের বা চাকরিজীবীদের লাগে। কিন্তু এখন ফ্রিল্যান্সিং আয় বৈধভাবে ব্যাংকে আনা, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া কিংবা বিশেষ কোনো সরকারি বা বেসরকারি job circular-এ আবেদনের ক্ষেত্রে স্টুডেন্টদেরও ই-টিন প্রয়োজন হয়।
ই-টিন খোলার পর স্টুডেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে ভয়টি কাজ করে, তা হলো ট্যাক্স বা কর দেওয়ার ভয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের যেহেতু করযোগ্য আয় থাকে না, তাই তাদের কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না; শুধু বছর শেষে ‘Zero Return’ বা শূন্য রিটার্ন জমা দিলেই হয়। আজকের এই তথ্যবহুল গাইডে আমরা আধুনিক tech ব্যবহার করে হাতের mobile বা ল্যাপটপ দিয়ে খুব সহজেই student etin registration করার নিয়ম এবং জিরো রিটার্ন জমার আদ্যোপান্ত আলোচনা করব।
student etin registration কেন প্রয়োজন?
একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর আয় সাধারণত ট্যাক্স সীমার (বর্তমানে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা) নিচে থাকে। তবুও কিছু বিশেষ প্রয়োজনে student etin registration করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়:
- ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর টাকা পেওনিয়ার (Payoneer) বা লোকাল ব্যাংকে আনার সময় ট্যাক্স ছাড় পেতে।
- স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা উচ্চশিক্ষার জন্য এডুকেশন লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে।
- নিজের নামে কোনো সঞ্চয়পত্র কিনতে চাইলে।
- মোটরসাইকেল বা স্কুটার কিনে নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করার সময়।
student etin registration করার সঠিক নিয়ম
ঘরে বসে অনলাইনে খুব সহজেইstudent etin registration তৈরি করা যায় এবং এর জন্য কোনো সরকারি ফি দিতে হয় না।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১. নিজের আসল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর।
২. নিজের নামে নিবন্ধিত একটি সচল mobile নম্বর।
ধাপসমূহ:
- প্রথমে আপনার ব্রাউজার থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) অফিসিয়াল ই-টিন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- ’Register’ বাটনে ক্লিক করে আপনার মোবাইল নম্বর এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন।
- লগ-ইন করার পর ‘TIN Application’ মেনুতে ক্লিক করুন।
- এখানে ‘Taxpayer Status’ হিসেবে ‘Individual – Bangladeshi’ সিলেক্ট করুন। ‘Source of Income’ এর ঘরে ‘Others’ বা ‘Profession’ (যদি ফ্রিল্যান্সিং বা টিউশনি করেন) দিতে পারেন।
- এরপর আপনার NID অনুযায়ী নাম, পিতা-মাতার নাম এবং ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- সবশেষে সাবমিট করলে সাথে সাথে আপনার ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে যাবে, যা আপনি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
এটি একটি অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়া। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-টিন সিস্টেম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে সরাসরি NBR-এর অফিসিয়াল ই-টিন পোর্টাল ভিজিট করুন।
Zero Return (শূন্য রিটার্ন) কী এবং কীভাবে জমা দেবেন?
আপনার নামে একবার ই-টিন খোলা হয়ে গেলে, প্রতি বছর আপনাকে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। যেহেতু স্টুডেন্ট হিসেবে আপনার আয় করযোগ্য নয়, তাই আপনাকে সরকারকে কোনো টাকা দিতে হবে না। আপনি শুধু একটি হিসাব বিবরণী জমা দিয়ে সরকারকে জানাবেন যে আপনার আয় করসীমার নিচে। এটিকেই বলা হয় ‘Zero Return’।
- কীভাবে দেবেন: এখন আর আয়কর অফিসে যাওয়ার দরকার নেই। NBR এর ই-রিটার্ন (e-Return) ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার টিন নম্বর দিয়ে লগ-ইন করুন। সেখানে আপনার আয় ও ব্যয়ের একটি আনুমানিক হিসাব দিয়ে (যেটি করসীমার নিচে থাকবে) অনলাইনে জিরো রিটার্ন সাবমিট করে দিন। সাবমিট করার সাথে সাথে একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Acknowledgement Receipt) পেয়ে যাবেন।
- সতর্কতা: ই-টিন খোলার পর যদি আপনি রিটার্ন জমা না দেন, তবে ভবিষ্যতে জরিমানা হতে পারে। এই ধরনের সেনসিটিভ ফাইন্যান্সিয়াল কাজগুলো করার সময় নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখতে wifi mac filtering to prevent password theft পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনার ওয়াইফাই সিকিউর করে নিতে পারেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. এনআইডি (NID) কার্ড না থাকলে কি student etin registration করা যাবে?
উত্তরঃ না। বর্তমানে অনলাইনে ই-টিন খোলার জন্য আবেদনকারীর এনআইডি (NID) কার্ড বা স্মার্ট কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে এটি করা যায় না।
২. ই-টিন খোলার পর কি প্রতি বছর ট্যাক্স দিতেই হবে?
উত্তরঃ না, আপনার আয় যদি বছরে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কম হয়, তবে আপনাকে এক টাকাও ট্যাক্স দিতে হবে না। শুধু অনলাইনে জিরো রিটার্ন জমা দিতে হবে।
৩. মোবাইল দিয়ে কি রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অবশ্যই। তবে মোবাইলের স্ক্রিন ছোট হওয়ায় ডেটা ইনপুট দিতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নির্ভুলভাবে কাজ করতে ল্যাপটপ বা পিসি ব্যবহার করা ভালো। দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপে কাজ করার সময় ল্যাপটপ গরম হলে আমাদের laptop overheating solutions গাইডটি অনুসরণ করতে পারেন।
৪. জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় কবে?
উত্তরঃ সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হয়। তবে সরকার অনেক সময় এই সময়সীমা বৃদ্ধি করে থাকে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, student etin registration এবং জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া এখন আর কোনো ভয়ের বা ঝামেলার বিষয় নয়। এটি মূলত রাষ্ট্রের প্রতি আপনার একটি দায়িত্ব এবং নিজের ফাইন্যান্সিয়াল প্রোফাইল বা আইডেন্টিটি তৈরি করার প্রথম ধাপ। আধুনিক প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেটের কল্যাণে আপনি ঘরে বসেই আপনার স্মার্টফোন বা পিসির মাধ্যমে এই সম্পূর্ণ কাজটি করে ফেলতে পারেন। তবে সবসময় মনে রাখবেন, ই-টিন খোলার পর প্রতি বছর জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া কিন্তু আইনিভাবে বাধ্যতামূলক। আশা করি, এই গাইডটি আপনার উপকারে এসেছে। নিয়মিত এমন দরকারি গাইডলাইন পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
