Universal Pension Scheme Application 2026:অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও নিয়মাবলী
বৃদ্ধ বয়সে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার চালু করেছে যুগান্তকারী ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’। সরকারি চাকরিজীবী ব্যতীত দেশের সকল স্তরের মানুষের অবসর জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে এই স্কিমটি আরও বেশি জনপ্রিয় ও সহজতর হয়েছে। আপনি যদি নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে চিন্তিত হন, তবে সর্বজনীন পেনশন স্কিম আবেদন পদ্ধতি ২০২৬ (Universal Pension Scheme Application 2026) জেনে আজই আপনার একাউন্টটি খুলে ফেলা উচিত।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ঘরে বসেই অনলাইনে পেনশন স্কিমের জন্য রেজিস্ট্রেশন করবেন, চাঁদা জমা দেবেন এবং এর সুবিধাগুলো কী কী।
সর্বজনীন পেনশন স্কিম কী?
Universal Pension Scheme Application 2026 হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ১৮ থেকে ৫০ বছর (বিশেষ বিবেচনায় তদূর্ধ্ব) বয়সী নাগরিকরা নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা জমা দিয়ে ৬০ বছর বয়সের পর থেকে আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী, বর্তমানে ৪টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই স্কিম চালু রয়েছে:
১. প্রবাস (Probash): প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য।
২. প্রগতি (Progoti): বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য।
৩. সুরক্ষা (Surokkha): স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি (যেমন: কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক) এর জন্য।
৪. সমতা (Somota): স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য (যাদের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার টাকার নিচে)।
আবেদন করার যোগ্যতা ও শর্তাবলী
Universal Pension Scheme Application 2026 এর প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আপনাকে জানতে হবে আপনি এর জন্য যোগ্য কি না।
আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
বয়সসীমা ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে (তবে ৫০-এর বেশি বয়সীরাও বিশেষ শর্তে আবেদন করতে পারবেন)।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকা বাধ্যতামূলক। যাদের এখনো এনআইডি নেই, তারা আমাদের নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৬ গাইডটি দেখে দ্রুত ভোটার হয়ে নিন।
প্রবাসী স্কিমের জন্য বৈধ পাসপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে। পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আমাদের পাসপোর্ট ইনফো বিভাগটি ভিজিট করুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
অনলাইনে আবেদন করার সময় হাতের কাছে নিচের তথ্যগুলো রাখা জরুরি:
১. নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর।
২. সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেস।
৩. ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ও রাউটিং নম্বর (যেখানে পেনশনের টাকা আসবে)।
৪. নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ।
৫. পাসপোর্ট সাইজের ছবি (আবেদনকারী ও নমিনির)।
Universal Pension Scheme Application 2026 আবেদন পদ্ধতি (ধাপে ধাপে)
প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর ব্যাংকে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। আপনি চাইলে ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে Universal Pension Scheme Application 2026 সম্পন্ন করতে পারেন। নিচে বিস্তারিত ধাপগুলো দেওয়া হলো:
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট upension.gov.bd-এ ভিজিট করুন। হোমপেজের ডান দিকে ‘পেনশনার রেজিস্ট্রেশন’ বাটনে ক্লিক করুন। এখানে সাধারণ তথ্যের পেজে ‘আমি সম্মত আছি’ বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যান।
ধাপ ২: প্রাথমিক তথ্য যাচাই: এই ধাপে আপনাকে প্যাকেজ বা স্কিম নির্বাচন করতে হবে। আপনি যদি প্রবাসী হন তবে ‘প্রবাস’, বেসরকারি চাকরিজীবী হলে ‘প্রগতি’ ইত্যাদি নির্বাচন করুন। এরপর আপনার ১০/১৩/১৭ সংখ্যার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ এবং মোবাইল নম্বর দিন। ক্যাপচা পূরণ করে সাবমিট করলে আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) যাবে। ওটিপি দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ: এনআইডি যাচাই হওয়ার পর আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম এবং ছবি এনআইডি সার্ভার থেকে অটোমেটিক চলে আসবে। আপনাকে শুধু আপনার বার্ষিক আয়, পেশা এবং বিভাগ-জেলা-উপজেলা নির্বাচন করতে হবে। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন কারণ Universal Pension Scheme Application 2026 এর সঠিক তথ্যের ওপর আপনার ভবিষ্যৎ সুবিধা নির্ভর করবে।
ধাপ : স্কিম ও চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ: এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি মাসিক, ত্রৈমাসিক নাকি বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা দিতে চান তা নির্বাচন করুন। চাঁদার পরিমাণ অপশন থেকে সিলেক্ট করুন (যেমন: ১০০০, ২০০০, ৫০০০ টাকা ইত্যাদি)। মনে রাখবেন, আপনি যত বেশি চাঁদা দেবেন, মেয়াদ শেষে আপনার পেনশনের পরিমাণ তত বেশি হবে।
ধাপ ৫: পেমেন্ট ও ব্যাংক তথ্য: আপনি যে ব্যাংক একাউন্টে পেনশনের টাকা পেতে চান, সেই ব্যাংকের নাম, শাখা ও একাউন্ট নম্বর দিন। এরপর নমিনির তথ্য (নাম, এনআইডি, সম্পর্ক) যুক্ত করুন। সবশেষে পেমেন্ট অপশনে গিয়ে আপনার প্রথম কিস্তির টাকা সোনালী ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে জমা দিন। পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও স্লিপ পাবেন। এটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
চাঁদা দেওয়ার নিয়ম ও সুবিধা
Universal Pension Scheme Application 2026 সম্পন্ন করার পর নিয়মিত চাঁদা দেওয়া জরুরি। আপনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রতি মাসের চাঁদা দিতে পারবেন। কোনো মাসে চাঁদা দিতে দেরি হলে জরিমানার বিধান রয়েছে, তাই সতর্ক থাকুন।
এই স্কিমের প্রধান সুবিধাসমূহ:
৬০ বছর বয়সের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মাসিক পেনশন।পেনশন চলাকালীন মৃত্যু হলে নমিনি বা উত্তরাধিকারী অবশিষ্ট সময় পেনশন পাবেন। জমা করা টাকার ওপর নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।পেনশনের টাকা সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত (Tax Free)।জরুরি প্রয়োজনে নিজের জমা টাকার ৫০% পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুবিধা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. আমি কি একাধিক স্কিমে আবেদন করতে পারব?
না, একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি স্কিমেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে প্রয়োজনে স্কিম পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে।
২. চাঁদা দেওয়া বন্ধ করলে কী হবে?
পরপর ৩ মাস চাঁদা না দিলে একাউন্ট স্থগিত হয়ে যাবে। পরবর্তীতে জরিমানা দিয়ে আবার চালু করা যাবে।
৩. ১৮ বছরের কম বয়সীরা কি আবেদন করতে পারবে?
না, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরই আবেদন করা যাবে। তবে অভিভাবকরা চাইলে তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে পারেন।
৪. প্রবাসীদের জন্য নিয়ম কী?
প্রবাসীরা বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় চাঁদা দিতে পারবেন। দেশে ফিরে তারা চাইলে স্কিম পরিবর্তন করে স্থানীয় মুদ্রায় চাঁদা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে আরও জানতে আমাদের ব্লগের অন্যান্য পোস্টগুলো দেখতে পারেন।
শেষ কথা
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা সেই অনিশ্চয়তা দূর করতে পারে। সর্বজনীন পেনশন স্কিম আবেদন পদ্ধতি ২০২৬ (Universal Pension Scheme Application 2026) অনুসরণ করে আজই আপনার বার্ধক্য জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগে অংশ নিয়ে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।
এই স্কিম বা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন। আমরা সাধ্যমতো উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। নিয়মিত সরকারি সেবার আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
Author Note: ( Universal Pension Scheme Application 2026) আর্টিকেলটি সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার যেকোনো সময় পেনশন স্কিমের নিয়মাবলীতে পরিবর্তন আনতে পারে। আপডেটেড তথ্যের জন্য সর্বদা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
Nicw