New Voter Registration 2026: অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ব্যাংক একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট তৈরি, সিম কার্ড কেনা এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য এনআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক। আপনি যদি এখনো ভোটার না হয়ে থাকেন, তবে নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৬ (New Voter Registration 2026) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই নিজেকে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে পারেন।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তাদের সার্ভার এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, এখন ঘরে বসেই অনলাইনে প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব কীভাবে আপনি সঠিক নিয়মে নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৬ (New Voter Registration 2026) সম্পন্ন করবেন।
নতুন ভোটার হওয়ার যোগ্যতা (Eligibility for New Voter)
আবেদন করার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে আপনি ভোটার হওয়ার জন্য যোগ্য কি না। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৬ (New Voter Registration 2026) এর জন্য নিচের যোগ্যতাগুলো থাকা আবশ্যক:
১. আবেদনকারীকে অবশ্যই জন্মসূত্রে বা আইনত বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
২. আবেদনকারীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে।
৩. আগে কখনো ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া যাবে না (ডাবল ভোটার হওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ)।
৪. মানসিক ভারসাম্যহীন বা আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত কেউ ভোটার হতে পারবেন না।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা (Required Documents)
অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৬ (New Voter Registration 2026) এর ফরম পূরণ করার সময় এবং পরবর্তীতে বায়োমেট্রিক দেওয়ার জন্য কিছু কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। সঠিক কাগজপত্র না থাকলে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে।
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ: অবশ্যই বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় থাকতে হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট (বয়স প্রমাণের জন্য এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য)।
- পিতা-মাতার এনআইডি কার্ড: বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
- নাগরিকত্ব সনদ: ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র: বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানির বিলের কপি।
- রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট: ব্লাড গ্রুপ টেস্টের অরিজিনাল রিপোর্ট।
- বিবাহিত হলে: কাবিননামা এবং স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের কপি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদে যদি কোনো ভুল থাকে, তবে ভোটার হওয়ার আগেই তা সংশোধন করে নিন। একইভাবে, যদি আপনার পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের এনআইডি কার্ডে ভুল থাকে, তবে আমাদের স্মার্ট কার্ড সংশোধন নিয়ম ২০২৬ পোস্টটি পড়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।
অনলাইনে New Voter Registration 2026 আবেদন করার নিয়ম
প্রযুক্তির কল্যাণে এখন নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৬ (New Voter Registration 2026) প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়েছে। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো:
ধাপ ১: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশনপ্রথমে আপনাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ এ প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন’ অপশনে ক্লিক করুন। আপনার নাম, জন্ম তারিখ এবং ক্যাপচা কোড পূরণ করে মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন—আপনার নাম (বাংলা ও ইংরেজি), পিতা-মাতার নাম, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম ইত্যাদি পূরণ করতে হবে। মনে রাখবেন, সার্টিফিকেটে যেভাবে নাম ও জন্ম তারিখ আছে, ঠিক সেভাবেই পূরণ করবেন। সামান্য ভুল হলে পরবর্তীতে কার্ড সংশোধনের ঝামেলায় পড়তে হবে।
ধাপ ৩: ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য প্রদানআপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করুন। আপনি যে ঠিকানায় ভোটার হতে চান, সেই এলাকা নির্বাচন করুন। ঠিকানা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন, কারণ পরবর্তীতে পাসপোর্ট করার সময় এই ঠিকানাই ভেরিফিকেশন হবে। পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য আমাদের পাসপোর্ট ইনফো ক্যাটাগরি ঘুরে দেখতে পারেন।
ধাপ ৪: কাগজপত্র আপলোড ও সাবমিটসব তথ্য পূরণ করার পর আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। সবশেষে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন। আবেদন সফলভাবে সাবমিট হলে আপনি একটি পিডিএফ ফাইল (Form 2) পাবেন। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিজের কাছে রাখুন।
বায়োমেট্রিক ও ছবি তোলার প্রক্রিয়া
অনলাইনে আবেদন করার পর আপনার নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৬ (New Voter Registration 2026) এর কাজ শেষ হয়নি। আপনাকে সশরীরে আপনার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যেতে হবে। সাথে নিয়ে যেতে হবে প্রিন্ট করা ফরম এবং মূল কাগজপত্রগুলো।
অফিসে গিয়ে নিচের ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে:
১. কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা।
২. ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ দেওয়া।
৩. চোখের আইরিশ স্ক্যান করা।
৪. ডিজিটাল ছবি তোলা।
বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে একটি স্লিপ দেওয়া হবে। এই স্লিপটি যত্ন করে রাখবেন, কারণ পরবর্তীতে স্মার্ট কার্ড বা এনআইডি কার্ড উত্তোলনের সময় এটি প্রয়োজন হবে।
সাধারণ কিছু ভুল ও সমাধান
অনেকেই নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৬ (New Voter Registration 2026) করার সময় কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন, যা পরবর্তীতে ভোগান্তির কারণ হয়।
রক্তের গ্রুপ ভুল দেওয়া: অনেকে অনুমান করে রক্তের গ্রুপ দেন। এটি করবেন না। সঠিক রিপোর্ট জমা দিন।ডাকনাম ব্যবহার করা: অফিশিয়াল কাগজপত্রে ডাকনাম ব্যবহার করবেন না। সার্টিফিকেটে যে নাম আছে, সেটাই দিন।স্বামীর নাম বা পিতার নাম: নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পর স্বামীর নাম যোগ করা বা পিতার নাম রাখা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকে। কাবিননামা থাকলে স্বামীর নাম ব্যবহার করতে পারেন।
আপনার যদি ইতিমধ্যে এনআইডি কার্ড থাকে এবং তাতে কোনো ভুল থাকে, তবে চিন্তার কিছু নেই। আপনি চাইলেই খুব সহজে তা সংশোধন করতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের স্মার্ট কার্ড সংশোধন গাইড দেখে নিন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. নতুন ভোটার হতে কত টাকা লাগে?নতুন ভোটার হওয়ার জন্য সরকারিভাবে কোনো ফি বা টাকার প্রয়োজন হয় না। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়।
২. আবেদন করার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?সাধারণত বায়োমেট্রিক দেওয়ার ১৫ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে অনলাইন কপি পাওয়া যায়। তবে স্মার্ট কার্ড পেতে এলাকাভেদে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
৩. ১৮ বছর না হলে কি ভোটার হওয়া যাবে?না, ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে হলে বয়স অবশ্যই ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সীরা নিবন্ধিত হতে পারেন, কিন্তু ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তারা ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন।
1 thought on “New Voter Registration 2026: অনলাইনে আবেদন করার Easy নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র”