Passport Application Rules 2026(পাসপোর্ট করার Easy নিয়ম ২০২৬)

২০২৬ সালে পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি Tech ফ্রেন্ডলি এবং আধুনিক। আপনি যদি কোনো দালালের কাছে না গিয়ে নিজেই নিজের ই-পাসপোর্ট তৈরি করতে চান, তবে আপনাকে বর্তমান নিয়মগুলো খুব ভালোভাবে জানতে হবে। আজকের ব্লগে আমরা Passport Application Rules 2026 এবং কীভাবে ঘরে বসে খুব Easy পদ্ধতিতে আবেদন করবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

বিশেষ পরামর্শ: পাসপোর্ট আবেদনের জন্য আপনার এনআইডি (NID) কার্ডের তথ্য সঠিক থাকা অত্যন্ত জরুরি। আপনার এনআইডি কার্ডে যদি কোনো ভুল থাকে, তবে পাসপোর্ট আবেদন করার আগেই তা সংশোধন করে নিন। এনআইডি সংশোধন করার সঠিক পদ্ধতি জানতে আমাদের এই গাইডটি পড়ুন: https://bdinfoguide.com/nid-card-correction-rules-2026/

Passport Application Rules 2026 অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

​পাসপোর্ট আবেদনের প্রথম ধাপ হলো আপনার সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে রাখা। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের জন্য আপনার যা যা লাগবে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card): ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মূল এনআইডি কার্ড বা অনলাইন কপি লাগবে।
  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন: ১৮ বছরের নিচের আবেদনকারীদের জন্য ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (English Version) থাকতে হবে।
  • পেশার প্রমাণপত্র: আপনি যদি চাকরিজীবী হন তবে এনওসি (NOC) বা পরিচয়পত্র এবং ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড।
  • বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি: বর্তমান ঠিকানার প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি সাথে রাখা ভালো।

পাসপোর্ট করার Easy নিয়ম ২০২৬:

অনলাইন আবেদন পদ্ধতি​পাসপোর্ট আবেদনের সবচেয়ে Easy মাধ্যম হলো বাংলাদেশ সরকারের অফিশিয়াল অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করা। আপনি সরাসরি নিচের অফিশিয়াল লিঙ্কে গিয়ে আপনার আবেদন শুরু করতে পারেন।​অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিঙ্ক: বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টাল https://www.epassport.gov.bd/ আবেদনের প্রধান ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:​প্রথমে ওপরের লিঙ্কে গিয়ে আপনার ইমেইল দিয়ে একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।​আপনার নাম, পিতা ও মাতার নাম এনআইডি কার্ড অনুযায়ী হুবহু ইংরেজিতে টাইপ করুন।​আপনার স্থায়ী ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে আপনার নিকটস্থ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সিলেক্ট করুন।​সব তথ্য পুনরায় যাচাই করে নিয়ে অনলাইন ফর্মটি সাবমিট করুন।

Passport Application Rules 2026 অনুযায়ী পাসপোর্টের ফি​২০২৬ সালে পাসপোর্টের ফি পেমেন্ট করা এখন অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে। আপনাকে আর ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না। আপনি আপনার Mobile ব্যাংকিং যেমন- বিকাশ (bKash) বা নগদ (Nagad) এর মাধ্যমে মুহূর্তেই আপনার পাসপোর্টের ফি জমা দিতে পারবেন।

ডেলিভারির ধরণ পৃষ্ঠা সংখ্যা মেয়াদের মেয়াদকাল ফি (ভ্যাটসহ)সাধারণ (২১ দিন) ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছর ৪,০২৫ টাকাজরুরি (৭-১০ দিন) ৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছর ৬,৩২৫ টাকাঅতি জরুরি (২ দিন) ৪৮ পৃষ্ঠা ১০ বছর ৮,৬২৫ টাকা

বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং পাসপোর্ট সংগ্রহ​

অনলাইনে আবেদন এবং পেমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। ওই নির্দিষ্ট দিনে আপনার অরিজিনাল এনআইডি কার্ড এবং পেমেন্ট স্লিপ নিয়ে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে:​আপনার ডিজিটাল ছবি তোলা হবে।​আপনার ১০ আঙুলের ছাপ (Fingerprint) এবং চোখের মণি (Iris) স্ক্যান করা হবে।

বায়োমেট্রিক কাজ শেষ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। ভেরিফিকেশন সফল হলে আপনার দেওয়া Mobile নম্বরে একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে। এরপর আপনি পাসপোর্ট অফিস থেকে আপনার নতুন পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

উপসংহার

​আশা করি, আমাদের এই Passport Application Rules 2026 গাইডটি আপনাকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করবে। আপনার যদি পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের জানাতে পারেন।

পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)​প্রশ্ন ১: পাসপোর্ট ফি কি ব্যাংকে গিয়ে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?উত্তর: না, ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী আপনি ঘরে বসেই বিকাশ, নগদ বা সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অনলাইনে ফি জমা দিতে পারবেন।​প্রশ্ন ২: পুলিশ ভেরিফিকেশন হতে কতদিন সময় লাগে?উত্তর: সাধারণত আবেদন করার ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করে। তবে এলাকাভেদে এটি কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।​প্রশ্ন ৩: পাসপোর্টে ভুল তথ্য দিলে কি হবে?উত্তর: পাসপোর্টে ভুল তথ্য দিলে আপনার আবেদনটি আটকে যাবে এবং এটি সংশোধন করা বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তাই এনআইডি কার্ড অনুযায়ী তথ্য দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

জরুরি প্রয়োজনে পাসপোর্ট দ্রুত পাওয়ার উপায়​আপনার যদি খুব দ্রুত পাসপোর্টের প্রয়োজন হয়, তবে আপনি ‘Super Express’ ডেলিভারি অপশনটি বেছে নিতে পারেন। এই পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার মাত্র ২ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য আপনাকে নিয়মিত ফির চেয়ে কিছুটা বেশি টাকা ফি হিসেবে প্রদান করতে হবে এবং আপনার পুলিশ ভেরিফিকেশন যদি আগে করা থাকে তবে এটি আরও দ্রুত হয়।