E-Namjari 2026 আবেদন করার নিয়ম ও ফি : জমি খারিজ পদ্ধতি
জমি কেনার পর রেজিস্ট্রি করাই শেষ কথা নয়। জমির প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি বা খারিজ (Mutation) করা বাধ্যতামূলক। আগে এই কাজের জন্য এসিল্যান্ড অফিসে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় এখন “E-Namjari 2026” সিস্টেম চালু করেছে, যার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে নামজারির আবেদন ও ফি পরিশোধ করতে পারেন।
আজকের এই গাইডে আমরা জানব অনলাইনে ই-নামজারি করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ সরকারি খরচ সম্পর্কে।
E-Namjari 2026 বা খারিজ কেন প্রয়োজন?
আপনি যখন কোনো জমি কেনেন, তখন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল হয়। কিন্তু সরকারের খাতায় (খতিয়ানে) আগের মালিকের নাম পরিবর্তন করে আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকেই নামজারি বা মিউটেশন বলে।
- নামজারি না করলে আপনি জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারবেন না।
- ভবিষ্যতে জমি বিক্রি করতে চাইলে নামজারি খতিয়ান ছাড়া বিক্রি করা যাবে না।
- ব্যাংক লোন বা জমি বন্ধক রাখতে নামজারি খতিয়ান বাধ্যতামূলক।
E-Namjari 2026 করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
অনলাইনে আবেদনের আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে (PDF বা JPG ফরমেটে) রেডি রাখুন:
১. মূল দলিলের স্ক্যান কপি বা সার্টিফাইড কপি।
২. সর্বশেষ খতিয়ান (CS, SA, RS বা City Jarip)।
৩. বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের দাখিলা।
৪. আবেদনকারীর এনআইডি কার্ড ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৫. ওয়ারিশ সূত্রে জমি পেলে ওয়ারিশান সনদ
নোট: এনআইডি কার্ড এবং জমির দলিলে নামের বানান যেন একই থাকে। এনআইডি সংশোধনের প্রয়োজন হলে আমাদের এনআইডি সংশোধন গাইড দেখে নিতে পারেন।
অনলাইনে E-Namjari 2026 আবেদন করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
E-Namjari 2026 প্রক্রিয়ায় আবেদন করা এখন অনেক সহজ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://mutation.land.gov.bd/?hl=en-GB তে প্রবেশ করুন। এরপর “নামজারি আবেদন” বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ২: জমির তথ্য প্রদান
একটি অনলাইন ফরম আসবে। সেখানে নিচের তথ্যগুলো সতর্কতার সাথে পূরণ করুন:
- জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা সিলেক্ট করুন।
- খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর দিন।
- জমির পরিমাণ এবং দলিলে উল্লেখিত তথ্যাদি দিন।
ধাপ ৩: আবেদনকারীর তথ্য ও ডকুমেন্ট আপলোড
- আবেদনকারীর নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা দিন।
- আগে স্ক্যান করে রাখা দলিল, খতিয়ান ও ছবি নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করুন। ফাইল সাইজ যেন নির্দেশিত সীমার মধ্যে থাকে।
ধাপ ৪: আবেদন ফি পরিশোধ
ফরম পূরণ শেষে আপনাকে ২০ টাকা (কোর্ট ফি) এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা—মোট ৭০ টাকা অনলাইনে (বিকাশ/নগদ/রকেট/উপায়) পরিশোধ করতে হবে। পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি আবেদন ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। এটি সংরক্ষণ করুন।
E-Namjari 2026 বা খারিজ খরচ ২০২৬ (সর্বশেষ ফি)
সরকার নামজারির খরচ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে যাতে কেউ প্রতারিত না হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় মোট খরচ ১,১৭০ টাকা।এটি ধাপে ধাপে দিতে হয়:
| ধাপ | ফি-এর বিবরণ | টাকার পরিমাণ |
|---|---|---|
| আবেদনের সময় | কোর্ট ফি + নোটিশ জারি ফি | ৭০ টাকা |
| অনুমোদনের পর | ডিসিআর (DCR) ফি | ১,১০০ টাকা |
| মোট খরচ | সরকারি ফি | ১,১৭০ টাকা |
(দ্রষ্টব্য: খতিয়ান প্রিন্ট বা ম্যাপের জন্য অতিরিক্ত কিছু চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে, তবে তা নামমাত্র।)
E-Namjari 2026 আবেদন চেক করার নিয়ম
আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা কী তা জানতে অফিসে যাওয়ার দরকার নেই।
১. mutation.land.gov.bd ওয়েবসাইটে যান।
২. “আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা” অপশনে ক্লিক করুন।
৩. আপনার বিভাগ ও আবেদনের ট্র্যাকিং নম্বর দিলেই স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. নামজারি হতে কত দিন সময় লাগে?
সাধারণত ২৮ কর্মদিবসের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম। তবে কাগজপত্রে জটিলতা থাকলে সময় একটু বেশি লাগতে পারে।
২. নামজারি বাতিল হলে কী করব?
কোনো কারণে এসিল্যান্ড আবেদন বাতিল করলে আপনি মিসকিস মামলা (Review Appeal) করতে পারেন।
৩. একাধিক দাগের জমি কি এক আবেদনে নামজারি করা যায়?
হ্যাঁ, যদি জমিগুলো একই মৌজার এবং একই দলিলে থাকে, তবে একটি আবেদনেই একাধিক দাগের নামজারি করা সম্ভব।
শেষ কথা
জমি আপনার অমূল্য সম্পদ। তাই জমি কেনার পর দেরি না করে দ্রুত E-Namjari 2026 এর মাধ্যমে নিজের নাম রেকর্ডভুক্ত করুন। দালালের কাছে অতিরিক্ত টাকা খরচ না করে নিজেই অনলাইনে চেষ্টা করুন।
আপনার জমির নামজারি নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।
1 thought on “E-Namjari 2026 আবেদন করার Easy নিয়ম ও ফি ২০২৬: জমি খারিজ পদ্ধতি”