Driving License Rules 2026: লার্নার থেকে স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড
বর্তমান সময়ে একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা কেবল আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারও অংশ। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BRTA) এখন লাইসেন্স করার প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করেছে। ফলে এখন দালালের পেছনে না ঘুরে আপনি নিজেই ঘরে বসে Driving License Rules 2026 অনুসরণ করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। আজকের এই ব্লগে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব কীভাবে নির্ভুলভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করার প্রাথমিক ধাপসমূহ
২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি ধাপ আপনাকে পার করতে হবে। প্রথমত আপনাকে লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পর আপনাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং সবশেষে বায়োমেট্রিক প্রদানের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিটি ধাপে Driving License Rules 2026 এর কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে যা মেনে চলা জরুরি।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Documents List)
আবেদন করার আগে আপনার হাতের কাছে নিচের কাগজপত্রগুলো স্ক্যান করে রাখুন
:১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর এনআইডি কার্ডের কপি। এনআইডিতে কোনো ভুল থাকলে আমাদের এনআইডি কার্ড সংশোধন ২০২৬ পোস্টটি দেখে সংশোধন করে নিন
।২. মেডিকেল সার্টিফিকেট: বিআরটিএ নির্ধারিত ফরমে একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক সত্যায়িত সার্টিফিকেট।
৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট বা তার উপরে।
৪. ব্লাড গ্রুপ রিপোর্ট: রক্ত পরীক্ষার সঠিক রিপোর্টের কপি।৫. বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল: আপনার বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে।
ডোপ টেস্ট ও ফি সংক্রান্ত তথ্য
নতুন Driving License Rules 2026 অনুযায়ী, যেকোনো ক্যাটাগরির লাইসেন্স করার আগে ডোপ টেস্ট (Dope Test) করা এখন বাধ্যতামূলক। সরকার নির্ধারিত হাসপাতালগুলো থেকে এই টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ হলে আপনি লাইসেন্সের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। লাইসেন্সের ফি প্রদানের ক্ষেত্রে পেশাদার এবং অপেশাদার ক্যাটাগরিতে ভিন্নতা রয়েছে। এই ফি আপনি এখন খুব সহজেই বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অনলাইনে পরিশোধ করতে পারবেন।
অনলাইনে লার্নার লাইসেন্স আবেদনের পদ্ধতি
এখন বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) এর মাধ্যমে লার্নার কার্ডের জন্য আবেদন করা অনেক সহজ। প্রথমে আপনাকে BRTA Service Portal এ গিয়ে একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সেখানে আপনার এনআইডি এবং জন্ম তারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রদান করুন। আবেদন সাবমিট করার পর ফি পরিশোধ করলে আপনি সাথে সাথেই লার্নার লাইসেন্স ডাউনলোডকেন আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে? করতে পারবেন। মনে রাখবেন, Driving License Rules 2026 অনুযায়ী লার্নার কার্ড ছাড়া আপনি ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।
পরীক্ষা এবং স্মার্ট কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া
লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার সাধারণত ২ থেকে ৩ মাস পর আপনাকে নির্ধারিত কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষায় তিনটি অংশ থাকে—লিখিত, মৌখিক এবং ব্যবহারিক (ফিল্ড টেস্ট)। পরীক্ষায় পাস করার পর আপনাকে বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ দেওয়ার জন্য বিআরটিএ অফিসে ডাকা হবে। বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে একটি টেম্পোরারি লাইসেন্স দেওয়া হবে যা দিয়ে আপনি গাড়ি চালাতে পারবেন।
স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সটি প্রিন্ট হয়ে গেলে আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে এসএমএস আসবে। এরপর আপনি বিআরটিএ অফিস থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত স্মার্ট কার্ডটি সংগ্রহ করতে পারবেন। অনেক সময় বিদেশে যাওয়ার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ২০২৬ পোস্টটি দেখতে পারেন।
কেন আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে?
অনেকে নিয়ম না জেনেই আবেদন করেন এবং পরে রিজেক্ট হন। Driving License Rules 2026 অনুযায়ী আবেদন বাতিলের প্রধান কারণগুলো হলো:
এনআইডি কার্ডের তথ্যের সাথে আবেদনের তথ্যের অমিল।
ডোপ টেস্ট রিপোর্ট নেতিবাচক বা পজিটিভ আসা।
জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রদান করা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা না দেওয়া।
পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে আপনি আমাদের ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ও সংশোধন পোস্টটি পড়ে নিতে পারেন, যা আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনেও সহায়ক হতে পারে।