Online Zero Return Submission Rules 2026: ঘরে বসে Easy way তে জিরো রিটার্ন দাখিল

Table of Contents

Online Zero Return Submission Rules 2026: ঘরে বসে জিরো রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম

​বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ই-টিন (E-TIN) সার্টিফিকেট থাকা মানেই হলো আপনাকে বছর শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। অনেকের মনে একটা ভয় কাজ করে যে, রিটার্ন জমা দেওয়া মানেই বুঝি পকেট থেকে টাকা খরচ করা বা সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তা নয়। আপনার বার্ষিক আয় যদি করযোগ্য সীমার নিচে থাকে, তবে আপনাকে এক টাকাও ট্যাক্স দিতে হবে না। একেই বলা হয় “Zero Return”। অনেকেই ইন্টারনেটে সঠিক Online Zero Return Submission Rules 2026 খুঁজছেন, যাতে দালালের কাছে না গিয়ে নিজেই এই কাজটি করতে পারেন।

আজকের এই ব্লগে আমরা দেখাব, কীভাবে ২০২৬ সালের আপডেটেড নিয়ম মেনে এনবিআর-এর ওয়েবসাইট ব্যবহার করে মাত্র ৫ মিনিটে আপনার জিরো রিটার্ন দাখিল করবেন। পাশাপাশি জানব, কারা জিরো রিটার্ন দিতে পারবেন এবং এর জন্য কী কী কাগজ লাগবে।

জিরো রিটার্ন (Zero Return) আসলে কী?

​সহজ কথায়, আপনার যদি টিন সার্টিফিকেট থাকে কিন্তু আপনার বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার (Tax-free limit) নিচে হয়, তবে সরকারকে ট্যাক্স হিসেবে ‘শূন্য’ টাকা দেখিয়ে যে বার্ষিক বিবরণী জমা দেওয়া হয়, তাকেই জিরো রিটার্ন বলে।​Online Zero Return Submission Rules 2026 অনুযায়ী, সাধারণ পুরুষ করদাতাদের জন্য বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নারী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের করদাতাদের জন্য ৪ লাখ টাকার কম হলে কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না। শুধু অনলাইনে একটি ফর্ম পূরণ করে সরকারকে জানিয়ে দিতে হয় যে, “আমার আয় করযোগ্য নয়”।

কাদের জন্য জিরো রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক?​

শুধু আয় কম হলেই হবে না, কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির মানুষের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। Online Zero Return Submission Rules 2026 এর নির্দেশিকা অনুযায়ী নিচের শর্তগুলো মিললে আপনাকে অবশ্যই রিটার্ন দিতে হবে:​যাদের ১২ ডিজিটের E-TIN সার্টিফিকেট আছে।​সরকারি বেতন স্কেলে যাদের মূল বেতন ১৬,০০০ টাকার বেশি।​যাদের ৫ লাখ টাকার বেশি ব্যাংক লোন বা ক্রেডিট কার্ড আছে।​যাদের নামে কোনো গাড়ি বা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স আছে।​যারা কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা ডিরেক্টর।​যাদের সঞ্চয়পত্রে (Savings Certificate) বিনিয়োগ আছে।

আপনার যদি এখনো টিন সার্টিফিকেট না থাকে, তবে রিটার্ন দেওয়ার আগে অবশ্যই টিন খুলতে হবে। ঘরে বসে ই-টিন খোলার নিয়ম জানতে আমাদের এই পোস্টটি পড়ুন।

জিরো রিটার্ন দিতে কী কী কাগজপত্র লাগে? (Required Documents)​

অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে সাধারণত কোনো কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হয় না। তবে Online Zero Return Submission Rules 2026 অনুযায়ী তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে পূরণ করার জন্য নিচের ডকুমেন্টগুলো হাতের কাছে রাখা ভালো:

১. ই-টিন সার্টিফিকেট: আপনার ১২ ডিজিটের টিন নম্বরটি লাগবে।

২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রয়োজন। এনআইডি কার্ড সংশোধন বা ডাউনলোড করার নিয়ম জানতে এখানে ক্লিক করুন।

৩. মোবাইল নম্বর: যে নম্বর দিয়ে ই-টিন খোলা হয়েছিল, সেই নম্বরটি ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের জন্য লাগবে।

৪. আয়ের প্রমাণপত্র: যেমন- ব্যাংকের স্টেটমেন্ট বা স্যালারি শিট (শুধুমাত্র তথ্য দেখে বসানোর জন্য)।​যাদের এনআইডি নেই কিন্তু পাসপোর্ট আছে, তারা পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন করতে পারেন। ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ও বিস্তারিত জানুন এই লিংকে।

Online Zero Return Submission Rules 2026: ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া

ধাপ ১: এনবিআর ওয়েবসাইটে লগইন (Login)​প্রথমে https://etaxnbr.gov.bd/#/auth/sign-in ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এটিই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) একমাত্র অফিসিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টাল।​আপনার TIN Number এবং Password দিয়ে লগইন করুন। (যদি পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তবে ‘Forgot Password’ এ ক্লিক করে ফোন নম্বরের মাধ্যমে রিকভার করতে পারবেন)।

ধাপ ২: অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার নির্বাচন​লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে “Return Submission” অপশনে ক্লিক করুন। এখানে আপনাকে কিছু বেসিক তথ্য দিতে হবে:​Assessment Year: ২০২৫-২০২৬ সিলেক্ট করুন (বর্তমান বছরের জন্য)।​Head of Income: আপনার আয়ের উৎস কী? (যেমন: Income from Salary, Income from Business, বা শুধু Income from Other Sources)।​Any Income from outside Bangladesh: না থাকলে ‘No’ দিন।

ধাপ ৩: আয়ের বিবরণী (Universal Self)​এই ধাপে আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে আপনি কোন স্কিমে রিটার্ন দেবেন। Online Zero Return Submission Rules 2026 অনুযায়ী, সাধারণ করদাতাদের জন্য “Universal Self” মোডটি সবচেয়ে সহজ।​আপনার মোট পরিসম্পদ (Gross Wealth) ৪০ লাখ টাকার কম হলে ‘Less than 40 Lakh’ সিলেক্ট করুন।​নিজের নামে গাড়ি বা হাউজ প্রপার্টি না থাকলে ‘No’ দিন।

ধাপ ৪: আয় ও ব্যয়ের তথ্য পূরণ​এখন আপনাকে দেখাতে হবে আপনি সারা বছর কত টাকা আয় করেছেন এবং কত টাকা ব্যয় করেছেন।​Income: আপনার বাৎসরিক আয় যদি করমুক্ত সীমার নিচে হয়, তবে সেই অংকটি বসান।​Expenditure: আপনার বাৎসরিক জীবনযাত্রার খরচ (খাবার, ভাড়া, বিল ইত্যাদি) বসান।​মনে রাখবেন, Online Zero Return Submission Rules 2026 অনুযায়ী, আপনার প্রদর্শিত আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখালে সমস্যা হতে পারে।

ধাপ ৫: ট্যাক্স এবং পেমেন্ট স্ট্যাটাস​যেহেতু আমরা জিরো রিটার্ন দিচ্ছি, তাই এই পাতায় আপনার “Payable Tax” এর ঘরে “0” (Zero) দেখাবে। যদি এখানে কোনো টাকার অংক আসে, তার মানে আপনি কোথাও ভুল করেছেন অথবা আপনার আয় করযোগ্য সীমার ওপরে চলে গেছে। সব ঠিক থাকলে “0” দেখে পরবর্তী ধাপে যান।

ধাপ ৬: ফাইনাল সাবমিট ও প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Acknowledgement)​সব তথ্য ঠিক থাকলে “Submit Return” বাটনে ক্লিক করুন। সাথে সাথেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে “Congratulations! Your Return Submitted Successfully”।​এখনই ড্যাশবোর্ড থেকে Acknowledgement Slip এবং Tax Certificate ডাউনলোড করে নিন। এই স্লিপটিই প্রমাণ যে আপনি সফলভাবে Online Zero Return Submission Rules 2026 মেনে রিটার্ন দাখিল করেছেন।

জিরো রিটার্ন দাখিল করার শেষ সময় কবে?​

সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এনবিআর সময় বৃদ্ধি করে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করতে পারে। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে আপনাকে ন্যূনতম কর বা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে আজই জমা দিয়ে দিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)​

প্রশ্ন ১: আমি বেকার বা ছাত্র, আমার কি রিটার্ন দিতে হবে?

উত্তর: যদি আপনার নামে ই-টিন খোলা থাকে, তবে আপনার আয় থাকুক বা না থাকুক, জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ভবিষ্যতে জরিমানা হতে পারে।​

প্রশ্ন ২: অনলাইনে রিটার্ন দিলে কি হার্ডকপি জমা দিতে হবে?

উত্তর: না। Online Zero Return Submission Rules 2026 অনুযায়ী, অনলাইনে সাবমিট করলে আর কর অফিসে গিয়ে কোনো হার্ডকপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনলাইনের প্রাপ্তি স্বীকারপত্রই মূল দলিল।

​প্রশ্ন ৩: পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কী করব?

উত্তর: লগইন পেজে ‘Forgot Password’ এ ক্লিক করুন। আপনার টিন নম্বর এবং ক্যাপচা পূরণ করলে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বরে ওটিপি যাবে। সেটি দিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করে নিতে পারবেন।

শেষ কথা (Conclusion)​

প্রযুক্তির কল্যাণে কর সেবা এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। Online Zero Return Submission Rules 2026 মেনে আপনি যদি সঠিক সময়ে জিরো রিটার্ন দাখিল করেন, তবে একদিকে যেমন আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবেন, অন্যদিকে দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজের কর্তব্য পালন করবেন।​

আশা করি এই গাইডটি আপনার উপকারে এসেছে। যদি কোনো ধাপে বুঝতে সমস্যা হয় বা ই-টিন নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তবে আমাদের ই-টিন রেজিস্ট্রেশন গাইড টি দেখে নিতে পারেন। পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Leave a Comment